মূল পাতা / মন ও ক্রীড়া / বিশ্বকাপ আমাদের!

বিশ্বকাপ আমাদের!

শুরু হয়েছে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ। প্রিয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে নানা জন করছেন নানা মত। করছেন চুলচেরা বিশ্লেষন।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম এর সাবেক মেন্টাল স্কিল কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব আজ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলায়াড়দের মেন্টাল স্কিল নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। মনের খবর পাঠকদের জন্য সেটি তুলে ধরা হলঃ

তামিম- এখন দায়িত্বশীল, তাঁর দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করবে।

সৌম্য- সামান্য চিন্তা কাজে লাগিয়ে, একটু ধরে খেলবে আশা করছি।

সাকিব- জানে পৃথিবীর কোথায় কি হয়। সুতরাং স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে।

মুশফিক – বোলিং যারযার- তারতার। মুশফিক কিলার। সাইলেন্ট এন্ড স্টিডি উইথ হিজ ওউন হেড।

মিথুন – বেশি চাপ নিজের উপর নেয়ার দরকার নেই। তার মেধা তার মতো করে কাজে লাগাবে সেটাই কাম্য। আগে-পরের বিষয় নিয়ে খুব চিন্তা করার দরকার নাই। মাইন্ডফুলনেস, কিপ কুল এন্ড স্টে কম্ফোর্টেবল।

মাহমুদউল্লাহ – গুড হেড, গুড প্ল্যায়ার। টিকে থাকতে হবে যতদূর পারা যায়। সবসময় মনে মনে হাসতে হবে। রিলাক্স…

সাব্বির- ন্যাচারাল ক্রিকেটার। কাজে লাগাতে হবে। টিকে থাকাতে নজর রাখতে হবে। বল এবং ফিল্ডারের দিকে তাকিয়ে খেলতে হবে। তারাহুরো নয়, বিলিভ অন ইওর এবিলিটি। নট কনসেনট্রেট টু ইনিথিং আদার দ্যান প্ল্যায়িং পারটিকুলার ডেলিভারি।

লিটন – (যদি থাকে) নিড স্লাইটলি মোর এগ্রেসন। তাতে খেলা ভালো হবে, মনোযোগও বাড়বে।

মিরাজ – বোলিং, ভালো খেলাগুলি মনে রেখে নিজের সামর্থকে পূর্ণ বিশ্বাসে আনতে হবে। ব্যাটিং, পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট চলবে। সামর্থযে যথেষ্ট আছে সেটা ভুলে গেলে চলবেনা। সবসময় মনে রাখতে হবে। এপ্লাই ইওর এবিলিটি।

মাশরাফি – জানে কি করতে হবে। পেছন ফিরে যে তাকায় না! তারপর যা হবার হবে। ব্যাটিং, ক্রিজে গিয়ে অবস্থা বুঝে, চান্স। টিকে থাকার দিকে কিছুটা কন্সেন্ট্রেশন রাখলে ভালো হয়।

সাইফুদ্দিন/রুবেল – নাথিং টু লুজ। এপ্লাই ইওর বেস্ট। যে পরিস্থিতিই হোক, ম্যাক্সিমাম এগ্রেশন। ইওর্কার বা শর্ট বল, যা দরকার কর- প্রতিপক্ষকে ছিড়েখুঁড়ে ফেলো। ব্যাটিং – স্টে কুল। পরিস্থিতি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন।

মুস্তাফিজ – নিজের সামর্থ্যের পাশাপাশি প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানের অবস্থা বুঝে স্টক ইউজ করতে হবে। কিপ কনসেনট্রেশান অন টেকিং উইকেট। শেষ দিকে নিজেকে আরও ফোকাস রাখতে হবে। বেশকিছু স্পেল আছে, সেসব মনে আনতে হবে। ম্যান, ইউ হ্যাভ দ্যা এবিলিটি।

উপরেরগুলি কথাগুলো আমার কথা।
ম্যানেজমেন্ট অবশ্যই নিজেদের মতো করে ছক এঁকেছেন। সেটাই হবে। নিজের কাজ ও দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হওয়া এবং সঠিকভাবে মনোযোগ ধরে রাখার জন্য সব প্লেয়ারেরই নিজস্ব কিছু টেকনিক থাকে। ম্যানেজমেন্ট এর প্ল্যানিং অনুযায়ী সেসব প্র‍্যাক্টিসও করা হয়। সামর্থ্য থেকে বেশি ভাবা, কম ভাবা, কে কি ভাব্বে সেসব নিয়ে চিন্তা করা, নিজের অবস্থান নিয়ে ভাবা, কি কি হতে পারে এসব ভাবনা মনে আনা, আগে পরের পরিস্থিতি চিন্তা করা, প্রতিপক্ষের সামর্থ্যের দিকে অতিরিক্ত ফোকাস করা, নির্দিষ্ট বল বা ব্যাটিং (শট) বিচার না করে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যান বা বোলারের নাম বিবেচনায় আনা সহ অনেক ছোটখাটো বিষয়ও মনোযোগ নষ্ট করে দেয়। সব পরিস্থিতিতে সামর্থ্যের প্রয়োগ করাই মেন্টাল স্কিল। অনেকটা ক্লাসিকাল গানের মতো, কে আছে কে নেই কোথায় আছি সেটা বিষয় নয়- বিষয় হলো নির্দিষ্ট গ্রামার মেনে নিজেকে চালিয়ে যাওয়া।
বিশ্বকাপের মতো এতবড় আসরে যাদেরকে নেয়া হয়েছে তাদের অবশ্যই সামর্থ আছে। যথাযথ প্রয়োগ করার ক্ষমতার উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। আশাকরি সে কাজটি তারা ভালো করেই করবে। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠার পর নিজের এতোবড় যোগ্যতাকে এনজয় করো। নিজেকে চিন্তামুক্ত, শান্ত ও খুশি রাখতে দুই মিনিট সময় নিজেকে দাও। খুশি হও। তারপর নতুন দিনে নতুন করে ফোকাসড হও।

বেস্ট অব লাক ফর দ্যা হোল টুর্নামেন্ট।