মূল পাতা / মন ও ক্রীড়া / শিশুদের জন্য খেলাধুলার গুরুত্ব কতটা বেশি তা সবাইকে অনুধাবন করতে হবে

শিশুদের জন্য খেলাধুলার গুরুত্ব কতটা বেশি তা সবাইকে অনুধাবন করতে হবে

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, শারীরিক ও মানসিক সুষ্ঠ বিকাশের জন্য খেলাধুলা করা অত্যন্ত জরুরী।

বছরের পর বছর ধরে শিশুদের উপর করা বিভিন্ন গবেষণা তাদের জন্য খেলাধুলার গুরুত্বকে সুস্পষ্ট রুপে স্বীকার করেছে। খেলাধুলা শুধু শিশুদের শারীরিক নয়, বরং মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বয়সের সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এই দক্ষতাই তাদেরকে বেড়ে ওঠার সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাহাজ্য করবে।

বিভিন্ন সময়ে আমরা পার্কে শিশুদের ফুটবল, বেসবল সহ আরো অনেক রকম খেলা করতে দেখি। এছাড়াও কিছু শিশুদের ভিডিও গেইম নিয়ে পড়ে থাকতেও দেখা যায়। খেলাধুলার প্রকারভেদ ভিন্ন হলেও এদের মধ্যে একটি সাধারণ বিষয় হল, প্রতিটি খেলার নিজস্ব নিয়ম রয়েছে। শিশুরা নিজেদের পছন্দসই খেলায় অংশ নিলেও কিছু নিয়ম কানুন তাদেরকে মানতেই হয়।

খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের মাঝে সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়। তারা নিয়ম মানতে শেখে। একই ভাবে বিভন্ন সমস্যা মোকাবেলার যোগ্যতাও অর্জন করে। খেলাধুলার এই দিক গুলোই তাদের শারীরিক ও মানসিক উন্নতি সাধনে সব থেকে বড় ভূমিকা পালন করে।

ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব কম্পারেটিভ সাইকোলজি নামক জার্নালের একটি আর্টিকেলে সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, খেলাধুলা শুধু মানুষেরই নয় বরং অন্যান্য প্রাণীদের বুদ্ধি এবং বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। গবেষণাটিতে শুধু খেলাধুলার গুরুত্বই নয় বরং বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা যা সব ধরনের প্রাণীর বেড়ে ওঠায় ভূমিকা রাখে সেসব কিছুর বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হয়েছে। প্রাণীদের মধ্যে বিশেষ করে ইঁদুরেরা কিভাবে তাদের আবাসস্থল ও বন্য পরিবেশে বিভিন্ন ক্রীড়ার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা অর্জন করে এবং ধিরে ধিরে বেড়ে ওঠে, গবেষণায় সেগুলি উঠে এসেছে।

এই গবেষণায় অংশ নেওয়া গবেষকগণ আরও দেখিয়েছেন যে, শিশুরা বিভিন্ন খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদেরকে বিভিন্ন সামাজিক অবস্থার সাথে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা অর্জন করে এর মাধ্যমে তাদের চিন্তাশক্তি এবং স্মরণশক্তি আরও সুদৃঢ় ও সুগঠিত হয়। তারা সুস্থ্ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

এছাড়াও আরও অনেক গবেষণায় বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীদের বেড়ে ওঠায় খেলাধুলার বিশেষ ভূমিকার বিষয়টি উঠে এসেছে। এসব গবেষণার দ্বারা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, খেলাধুলা শিশুদের স্নায়বিক উৎকর্ষ সাধন করে তাদেরকে আরও সামাজিক করে তোলে যা সব প্রজাতির প্রাণীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। খেলাধুলার মাধ্যমে যে কোন প্রজাতির প্রাণী তাদের প্রজাতির  অন্য প্রাণীদের সাথে সুষ্ঠু যোগাযোগ স্থাপনের দক্ষতা অর্জন করে এবং বিভিন্ন পরিবর্তনের সাথে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার মানসিক দক্ষতার অধিকারী হয়।

খেলাধুলা শিশুদের নিয়ম মেনে চলার গুরুতব শেখায়। একইসাথে শারীরিক ও মানসিক উত্তর উত্তর উন্নতি সাধন করে অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সূত্র: সাইকোলজি টু’ডে : https://www.psychologytoday.com/us/blog/comparatively-speaking/201909/understanding-why-play-is-so-important-children