বিষণ্ণতা দূর করতে অ্যারোবিক ব্যায়াম

বিষণ্ণতা দূর করতে অ্যারোবিক ব্যায়াম

বিষণ্ণতা দূর করতে অ্যারোবিক ব্যায়াম এর কার্যকারিতা পেয়েছেন গবেষকরা। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সুনিয়ন্ত্রিত অ্যারোবিক ব্যায়ামের মাধ্যমে বিষণ্ণ রোগীদের চিকিৎসা করা সম্ভব।

‘ডিপ্রেশন অ্যান্ড অ্যাংজাইটি’ জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় দেখা গেছে, বিষণ্ণতা প্রতিরোধে ওষুধ কিংবা মানসিক থেরাপির তুলনায় অ্যারোবিক ব্যায়াম অত্যাধিক প্রভাব বিস্তার করে।

গ্রিসের থেসালি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গবেষক ইওনিস ডি. মোরেস বলেন, এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, সামষ্টিকভাবে সুনিয়ন্ত্রিত অ্যারোবিক ব্যায়াম উল্লেখযোগ্যভাবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণায় ১৮-৬৫ বছরের ব্যক্তিদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে মারাত্মক বিষণ্ণতায় ভুগছেন এমন ৪৫৫ জন রোগীদের ক্ষেত্রে ১১টি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ সব তথ্য জানা গেছে।

গবেষণায় সপ্তাহে তিনবার করে ৯.২ সপ্তাহ ধরে মাঝারি তীব্রতায় সুনিয়ন্ত্রিত অ্যারোবিক ব্যায়াম সম্পন্ন করা হয়েছিল।

গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল বিষণ্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে বিষণ্নতা প্রতিরোধে অ-অ্যারোবিক ব্যায়ামের তুলনায় অ্যারোবিক ব্যায়ামের প্রভাব বিশ্লেষণ করা।

গবেষকরা বলছেন, বিষণ্ণতায় ভুগছেন এমন রোগীদের ক্ষেত্রে অ-অ্যারোবিক ব্যায়ামের তুলনায় অ্যারোবিক ব্যায়ামের প্রভাব তুলনামূলক বেশি।

উল্লেখ্য, অ্যারোবিক ব্যায়াম হল উচ্চতর শারীরিক ব্যায়াম যা প্রাথমিকভাবে অ্যারোবিক শক্তি-উৎপাদনের প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে।

অ্যারোবিক বিষয়টি মুক্ত অক্সিজেনর সাথে সম্পর্কিত। এ ক্ষেত্রে ব্যায়ামের সময় প্রয়োজনীয় শক্তির চাহিদা পূরণ করতে অ্যারোবিক মেটাবোলিজমের সাহায্যে অক্সিজেনের ব্যবহার করা হয়।

অ্যারোবিক ব্যায়ামের উদাহরণ হল কার্ডিও মেশিন, ঘূর্ণন (স্পিনিং), দৌড়, সাঁতার, হাঁটা, হাইকিং, নৃত্য, কিকবক্সিং ইত্যাদি।