অফিসে কেন ঘুম আসে? 1

অফিসে কেন ঘুম আসে?

সুস্থ দেহে সুস্থ মনের বাস। শরীর সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের পাশাপাশি প্রয়োজন পরিমাণ মতো ঘুম। কিন্তু অনেকেই আছেন যারা রাতে তৃপ্তি সহকারে ঘুমোতে  পারেন না।
মানসিকভাবে যারা হতাশায় থাকেন এবং চিন্তার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করেন তাদের রাতের বেলা একটু কম ঘুম হয়। আর এর প্রভাব পড়ে পরদিন কর্মক্ষেত্রে। যারা অফিসে কাজ করেন তাদের অফিসে বসলেই একটু ঘুম ঘুম ভাব চলে আসে এবং অনেকেই কাজের চাপ কম থাকলে ঘুমিয়েই পড়েন। নির্ঘুম রাত কাটানোর ফলে দিনের বেলা কাজে মনোযোগ কম থাকে। মনে হয় একটু ঘুমিয়ে নেই। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ৩টি কোম্পানির এক হাজার একশ ঊনচল্লিশ জন কর্মকর্তা-কর্মচারির ওপর একটি গবেষণা চালানো হয়। এতে দেখা যায়, ১৫ শতাংশ লোক দিনের বেলা কাজের মধ্যেও ঘুমিয়ে পড়েন। এর কারণ হিসেবে গবেষণার প্রধান জেনিফার টারগিস বলেন, উদ্বিগ্নতা, মানসিক চাপ, শারীরিক সমস্যা এবং পরিবেশগত কারণে রাতে লোকজন নিদ্রাহীনতায় ভুগতে পারে।’

আর ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের মতে, ২৯ শতাংশ লোকই কাজ চলাকালীন সময়ে ঘুম-ঘুম ভাব অনুভব করেন এবং তাদের অধিকাংশই ঘুমিয়ে পড়েন। এভাবে নিদ্রাহীন রাত যাপন এবং দিনের বেলা তন্দ্রাচ্ছান্নতার ফলে কাজে যেমন ক্ষতি হয় তেমনি হতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা।

গবেষণায় প্রমাণিত, রাতে নিদ্রাহীনতার কারণে মানুষের মধ্যে অস্থির ভাব কাজ করতে পারে এবং কাজের ক্ষেত্রে মনোযোগ কমে যেতে পারে। পাশপাশি কার্ডিওভাসকুলার, ডায়াবেটিস, স্হূলতাসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে।

রাতে কম ঘুম হলে ক্লান্তি কাজ করার ফলে কাজের সময়ে মানুষের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা কমে যায়, মনোযোগের অভাব দেখা দেয়, সাধারণ কোনো বিষয়ের কারণে মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে এবং সহকর্মীদের সাথে খারাপ  ব্যবহার করে।

তাই রাতে ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে। আর যাদের রাতে ঘুমোতে সমস্যা হয় কিংবা ঘুম আসে না তাদের জন্য হালকা শারীরিক ব্যয়াম, হাঁটাহাঁটি করা, কাজের মাঝে বিশ্রাম নেয়া, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া খাবারের মেন্যুতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রাখার কথা বলা হয়। ব্রিটিশ এক গবেষণায় দেখা গেছে, ওমেগা-৩ ঘুমের জন্য বেশ উপকারী।

আর রাতে ঘুমানোর আগে ল্যাপটপে কিংবা মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার না করাই ভালো।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, মনের খবর