মূল পাতা / সংবাদ / জাতীয় / শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ ছাড়া জাতীয় উন্নতি হয় না

শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ ছাড়া জাতীয় উন্নতি হয় না

শিশু ও কিশোর বয়স জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় যা পরবর্তীতে ভবিষ্যৎ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সোপান। সারাজীবনে যত মানসিক রোগ হয় তার অর্ধেকই ১৪ বছর পূর্বে শুরু হয়। এ জন্য এ সময়ে শিশু-কিশোরদের পরিবার, স্কুল ও সমাজের ইতিবাচক সহযোগিতা প্রয়োজন। শিশু –কিশোরদের মানসিক বিকাশ ছাড়া জাতীয় উন্নতি সম্ভব না।

মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডাঃ মিলন হলে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফর চাইল্ড এন্ড এডলোসেন্ট মেন্টাল হেলথ’র (বিএসিএএমএইস) ৮ম বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা-ধারা তৈরি করতে ৮ম বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে (বিএসিএএমএইস)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কামরুল হাসান খান বলেন, ‘মানুষ তার পরিকল্পনা, স্বপ্ন ও লক্ষ্য বাস্তবায়ন করার স্বপ্ন দেখে এই বয়সে। তাদের মন মানসিকতা উন্নত করবার বয়সই এই শিশু বয়সে। তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখানোর দায়িত্ব আমাদের সবার।’

এরই পরিপেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমডি কোর্স চালু করা হয়েছে। শিশু-কিশোরদের চিকিৎসা সেবায় বিশেষজ্ঞ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন এমডি কোর্স ‘চাইল্ড সাইকিয়াট্রি’ চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩ জন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়েছে বলে জানান তিনি।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশে শিশু-কিশোরদের শতকরা ১৮ জন যে কোনো ধরনের মানসিক রোগে আক্রান্ত। কিন্তু বিপুল এ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার জন্য মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ, চিকিসক ও সহায়ক পেশাজীবীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। এজন্য শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানসিক রোগ প্রতিরোধ ও ইতিবাচক মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশ বিশেষভাবে জরুরি।

এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে আসা কানাডার ব্রাম্পটন সিভিক হাসপাতালের চিকিৎসক মুরাদ বক্ত বলেন, শিশু-কিশোরদের চিকিৎসা সেবায় দক্ষ চিকিৎসক নেই। এদের নিয়ে দেশের মেডিকেলে পাঠক্রম নেই। যার ফলে দক্ষ চিকিৎসক গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে শিশু-কিশোররা সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সাধারণ সভার পরে অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন অধ্যাপক মোঃ ফারুক আলম ও অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান খান।

এরপর দুইটি শিশু-কিশোরদের উপর ওরাল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপিত হয়। প্রথম সেশনে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন অধ্যাপক এমওকে ওয়াদি, ডা. এ এ মামুন হোসাঈন, ডা. মোঃ মনিরুল ইসলাম, ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ খান, ডা. সিফাত-ই-সাঈদ।

এরপর প্লানারি সেশনে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন অধ্যাপক মো. এস আই মল্লিক ও অধ্যাপক মো. ওয়াজিউল আলম চৌধুরী।

দ্বিতীয় ওরাল প্রেজেন্টেশন সেশনে তথ্য ও প্রেজেন্টেশন তুলে ধরেন ডা. মনিরুল ইসলাম, ডা. মোঃ রাহানুল ইসলাম, নাসিমা আক্তার, ডা. ফজলুল বারী মিঠু, ডা. এ কে মো. খালেকুজ্জামান ও ডা. তৌহিদুল ইসলাম।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসিক রোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ঝুনু শামসুন নাহার এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্ট এর সভাপতি অধ্যাপক মো. গোলাম রব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. ওয়াজিউল আলম চৌধুরী।

এছাড়াও অধ্যাপক এমএসআই মিল্লক, অধ্যাপক এম এ সালাম, অধ্যাপক ফারুক আলমসহ শিক্ষক, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও শিশু-কিশোর মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত সহায়ক পেশাজীবী উপস্থিত ছিলেন।

জাহিদ হাসান, প্রতিবেদক
মনেরখবর.কম


লক্ষ্য করুন- মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক খবর বা প্রেস রিলিজও আমাদের পাঠাতে পারেন। বৈজ্ঞানিক সেমিনার, বিশেষ ওয়ার্কশপ, সাংগঠনিক কার্যক্রমসহ মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক যে কোনো খবর পাঠাতে news@monerkhabor.com এই ইমেইলটি ব্যবহার করতে পারেন আপনারা।