নতুন বাব-মা’দের মানসিক সমস্যার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে

গর্ভাবস্থায় কিংবা প্রথম সন্তান জন্মের পর নারীদের প্রতি ৫ জনের ২ জন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগেন এবং চিকিৎসকের কাছে যেতে ভয় পান। যুক্তরাজ্যের ‘রয়্যাল কলেজ অব নার্সিং’(RCN)-এর তথ্যমতে, সন্তানের বাবা মা হয়েছেন এমন দম্পতিরা হতাশা, উদ্বিগ্নতাসহ বিভিন্ন মানসিক রোগে ভুগলেও চিকিৎসা-সেবা গ্রহণ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

সম্প্রতি সন্তান জন্ম দিয়েছেন এমন ২ হাজার বাবা-মা’র উপর প্রতিষ্ঠানটি জরিপ করে জানায়, সন্তান জন্মদানকারী নব্য বাবা-মা’দের প্রায় ৫০ শতাংশ বিভিন্ন মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরও চিকিৎসা গ্রহণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে না। বাবা-মা’র মধ্যে চিকিৎসাভীতি কাজ করার ফলে তারা চিকিৎসকের কাছে যেতে চায় না।

সংস্থাটি মনে করে, মানসিক রোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে অজ্ঞতা আর ভুল ধারণার কারণে বাবা-মা’রা চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছে না কিংবা যেতে ভয় পাচ্ছে।

জরিপে এটাও দেখা যায় যে, মানসিক রোগ থেকে মুক্ত হতে পরিবারের নারীরা পুরুষদের কাছে উৎসাহ ও পরামর্শ পেলেও পুরুষরা পরিবার কিংবা সহধর্মিনীর কাছ থেকে তেমন উৎসাহ বা সহযোগিতা পায় না। অথচ সন্তান ও সহধর্মিনীকে নিয়ে পুরুষরা আরো বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন।

প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা কার্মেল বাগন্যাস জানান, ‘প্রথম সন্তান জন্মের পর অনেক বাবা-মা হতাশা ও উদ্বিগ্নতায় ভুগছেন। মানসিক রোগ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে তাদের জীবন হুমকির সন্মুখীন হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর অনেক নাগরিকই তার সঙ্গী কিংবা স্বজনের কাছে সাহায্য চায়। যারা কোনো রকম সাহায্য চায় না কিংবা প্রত্যাশা করে না তাদের ১১ শতাংশ জানেই না স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে কোন ধরনের সেবা দেয়া হয়।’

মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও ডাক্তারদের আরো বেশি সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ডাক্তার ও কর্মকর্তারা যাতে রোগীর সাথে সক্রিয় যোগাযোগে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং মানসিক স্বাস্থ্যে আরো বেশি অবদান রাখতে পারে সেজন্যে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।’

দেশটির মাতৃত্বকালিন মানসিক স্বাস্থ্য জোট ‘ম্যাটারনাল মেন্টাল হেণ্থ এলায়েন্স’ (Maternal Mental Health Alliance)-এর ভাইস চেয়ারম্যান ক্লারি ডোলমানের মতে, আরসিএনের ৬০ টি সংগঠন আছে। এসব প্রতিষ্ঠানের জনবলকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে যাতে পিতামাতা মানসিক রোগে আক্রান্ত হলে কুসংস্থার ও অজ্ঞতা দূর করাতে সহায়তা ও জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সম্ভব হয়।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমার কন্যাশিশু জন্মের পর আমি মানসিকভাবে অসুস্থ্যবোধ করছিলাম। সচেতন ছিলাম বলে সহজে পরিত্রান পেয়েছি। আমি অনেক বাবা-মা’র সাথে কথা বলেছি যাদের অধিকাংশ চিকিৎসা আর সচেতনতার মধ্যদিয়ে স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে।

পাশের বন্ধু , প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনকে সচেতন করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সন্তান জন্মপরবর্তী মানসিক রোগ সম্পর্কে নিজে সচেতন হতে হবে এবং অন্যদেরও সচেতন করে তুলতে হবে।’

সূত্র: বিবিসি

ফারুক হোসেন, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মনেরখবর.কম