শিশুর মানসিক রোগমুক্তির জন্য বাবা-মাকে সচেতন হতে হবে

শিশুদের প্রতি পাঁচজনের একজন শৈশবের কোনো না কোনো সময় মানসিক রোগ বিশেষ করে বিষণ্নতায় (depression) ভোগে। এদের মধ্যে ২ শতাংশ ভোগে ‘মেজর ডিপ্রেশন’ রোগে। যুক্তরাষ্ট্রের মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থা ন্যাশনাল এলায়েন্স অন মেন্টাল হেল্থ এ তথ্য জানায়।

প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলকে প্রাধান্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. চার্লস রাইজেন বলেন, আমি মনে করি আমাদের এখন থেকে সচেতন হওয়া দরকার। সন্তান যখন কয়েক সপ্তাহ অস্বাভাবিক আচরণ করে যেমন, বন্ধুদের সাথে মিশতে না চাওয়া এবং তার মুড পরিবর্তন হয়ে যাওয়া তাহলে বাবা-মা’র উচিত তাকে প্রাধান্য দেয়া এবং তার সাথে আলোচনা করা।

তিনি বলেন, কম বয়সী শিশুদের হতাশা থাকলেও খুব কম লক্ষণ খুজে পাওয়া যায়। কারণ হতাশায় ভুগলে তারা কিরুপ আচরণ করবে তা তারা জানে না। তবে হতাশায় আক্রান্ত হলে শিশু বেশি কান্না করে, একা ঘুমাতে ভয় করে কিংবা ঘুমের ব্যঘাত ঘটে। কোনো কোনো সময় রাতে হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে ওঠে কিংবা অনেক বেশি সময় (১২ ঘন্টা) ঘুমায় বলে অভিমত দেন তিনি।

এমনটি ঘটলে বাবা মা কি করবেন তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে অনেক সময় দ্বিধা কাজ করে। তবে সন্তানের আচরণে এরুপ পরিবর্তন এলে বাবা মা’র সঠিক সিদ্ধান্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এমন একটা অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক মেলিসা এনকিনস আর্ডি। তার ৮ বছর বয়সী মেয়ে এমেলিয়া ‘দূর্ঘটনা পরবর্তী মানসিক রোগ’ (trauma) থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, এক সময় সে স্কুলে যেতে চাইতো না। স্কুলের প্রতি তার আগ্রহ কমে যায়। স্কুলে যেতে জোর করলে সে কান্না করতো। রাতে একা ঘুমাতে ভয় পেতো এবং কান্না করতো।

পরে তিনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যান এবং পরীক্ষায় জানা যায় সে ‘ডিপ্রেশন’ রোগে ভুগছে। এক বছর চিকিৎসা নেয়ার পর মেয়ে এখন সুস্থ আছে বলে বার্তাসংস্থা সিএনএনকে জানান তিনি।

monon-600

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার মনোরোগবিদ্যা বিভাগের পরিচালক ডা. রবার্ট হেনড্রেন বলেন, মেলিসা এনকিনস সন্তানের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে পেরেছিলেন যে তার কিছু একটা হয়েছে এবং তিনি ডাক্তারের সাহায্য নিয়েছেন।

কিভাবে অভিভাবক সন্তানের মানসিক রোগ সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে জানতে পারবেন সে উপায়ও বলে দেন তিনি।

তিনি বলেন, শিশুদের সাথে সরাসরি কথাবার্তা বলতে হবে। তার মন খারাপ খাকলে আদরের সাথে তার কারণ জিজ্ঞাসা করলে কেন তার মন খারাপ হয়ত জানা যাবে। এছাড়া স্কুল শিক্ষক, কিংবা পরিবারের অন্য সদস্য যাদের সাথে সে মিশে এবং খেলা করে তাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

বাবা মা তথ্য সংগ্রহ করে যদি দেখেন যে, তার পরিবর্তনকৃত আচরণের জন্য কিংবা মন খারাপ হওয়ার পিছনে তেমন কোনো বাহ্যিক কারণ নেই, তাহলে তার মানসিক অবস্থা বুঝার জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়াই যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করেন তিনি।

শিশুর মানসিক রোগমুক্তি নির্ভর করে বাবা-মা’র উপর। সঠিক সময়ে বাবা মা ‍যদি সন্তানের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকেন তাহলে তারা ডাক্তারের সাথে পরামর্শ ও চিকিৎসা নিয়ে শিশুকে রোগ থেকে মুক্ত করতে পারেন।

সূত্র: সিএনএন

ফারুক হোসেন, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মনেরখবর.কম