মূল পাতা / সংবাদ / আন্তর্জাতিক / ‘টকিং থেরাপি’ ব্যবহারে উপকৃত হচ্ছে জিম্বাবুয়ের মানসিক রোগীরা

‘টকিং থেরাপি’ ব্যবহারে উপকৃত হচ্ছে জিম্বাবুয়ের মানসিক রোগীরা

আফ্রিকার দরিদ্রতম দেশ জিম্বাবুয়ের নাগরিকরা অধিক হারে মানসিক রোগে আক্রান্ত হলেও পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছে না। অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা আর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অপর্যাপ্ততার কারণেই এমনটি ঘটছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, আগামী দিনগুলোতে দেশটির মানসিক রোগীর সংখ্যা আরো বেড়ে যাবে। মানসিক রোগ মোকাবেলায় তাই হাজার হাজার মানুষ ব্যবহার করছে ‘টকিং থেরাপি’।

রাজধানী হারারের একজন মনোরোগবিদ ড. দিক্সন সিবান্দা বলেন, ‘মানসিক রোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে পৌরাণিক ভুল ধারণা (myths) চরম মাত্রায় বিরাজ করছে। ‘ভুল পথে চলার কারনে মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়’ এমন ধারণা বহুদিন থেকে সমাজের মানুষ বিশ্বাস করে আসছে। ফলে তারা মানসিক রোগে আক্রান্ত হলেও চিকিৎসা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে না। কিন্তু মানসিক রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার বিকল্প নেই বললেই চলে।’

বিপুল সংখ্যক মানুষকে একই সাথে চিকিৎসা প্রদান সম্ভব না হওয়ায় সহজে এ চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্তদের মেডিকেল সেবা নেয়া বেশি প্রয়োজন।

‘ফ্রেন্ডশিপ বেঞ্চ’ নামের দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী প্রতিষ্ঠাতা ড. সিবান্দার সাথে কাজ করছেন অসংখ্য তরুণ, স্বেচ্ছাসেবক এবং কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। প্রায় একযুগ ধরে তারা মানসিক রোগ নিয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য এবং ভুল ধরণা দূর করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। করেছেন তরুনদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও।

শুধু জিম্ববুয়েই নয় মানসিক রোগের মাত্রা আফ্রিকার সাব-সাহারান অঞ্চলেও বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি। সেসব অঞ্চলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। মানসিক রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বেকার সমস্যার পাশপাশি শারীরিক বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার দরুণ মানসিক স্বাস্থ্যে তাদের মনোযোগ নেই।

এ থেরাপি অনুযায়ী, প্রথমে রোগীকে মানসিক রোগ সম্পর্কে কথা বলতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এরপর মানসিক রোগ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদানের মাধ্যমে ব্যক্তির মানসিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হয় এবং মানসিক মনোবল ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হয়।

ফলে রোগী মানসিক রোগ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পান এবং কোথায় গেলে কোন চিকিৎসা নিলে অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে সে সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়।

মানসিক রোগের জন্য এ থেরাপি কতটা কার্যকর এমন প্রশ্নের জবাবে রাজধানি হারারের এক বাসিন্দা ছিপো (ছদ্মনাম) বিবিসিকে বলছিলেন, ‘ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার হয়ে তিনি চরম হতাশাগ্রস্থ ছিলেন। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাকে নিয়ে কটাক্ষ করতো। তিনি বলেন, খুব বেশি হতাশায় ভোগার কারণে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলো। কিন্তু সুস্থ হওয়ার আগেই আমার স্বামী আমাকে ডিভোর্স দেয়। আমি গ্রামের বাড়ি চলে যাই। সেখানে আমাকে খালি ঘরে বেঁধে রাখা হতো। আমি শুধু কান্নাকাটি করতাম। কয়েকবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেও পারিনি। অবশেষে ফ্রেন্ডশিপ বেঞ্চের রুতান্দ নামের এক স্বেচ্ছাসেবী আমাকে সাহায্য করে।’ মুলত রুতান্দরের কথা শুনে থেরাপি নেয়ার পর তিনি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।

রুতান্দ বলেন, মানসিক রোগে আক্রান্ত হলে আমরা রোগীকে আত্মপ্রত্যয়ী হতে শেখাই। কিভাবে মানসিক রোগ বিশেষ করে হতাশা থেকে মুক্ত হওয়া যায় সে সম্পর্কে পরামর্শ দিলে তারা বিদ্যমান সমস্যা থেকে সাময়িক হলেও মুক্তি পান।

ড. সিবান্দা মনে করেন, উদাহরণসহ সঠিকভাবে যদি রোগীর সাথে কথা বলা যায় তাহলে রোগীর জন্য এ থ্যারাপি বেশ কার্যকর হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

দ্রষ্টব্য- স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চালিত এই প্রক্রিয়াটিকে মূল সংবাদে “talking therapy” হিসেবে উল্লেখ করায় এর নামটি অবিকৃত রাখা হলো।

ফারুক হোসেন, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মনেরখবর.কম