মূল পাতা / সংবাদ / সাহায্যকর্মীরা ভুগছেন মানসিক সমস্যায়

সাহায্যকর্মীরা ভুগছেন মানসিক সমস্যায়

সম্প্রতি একদল সাহায্যকর্মীকে যেতে হয়েছিল সিরিয়ার অবরুদ্ধ শহর মদিয়ায়। স্বচক্ষে দেখেছেন ধ্বংসলীলার ভয়াবহতা। দেখেছেন আনুমানিক ৪২ হাজার মানুষের মানবেতর জীবন। পুষ্টি বঞ্চিত মলিন চোখ সবখানে।

দুর্যোগ মোকাবেলার প্রথম সারিতেই থাকতে হয় সাহায্যকর্মীদের। পৃথিবীর যে কোনো দুর্গম স্থানে হলেও তাদেরকে পাঠানো হয় আক্রান্ত এলাকায়। ভয়াবহ দৃশ্য, উন্মত্ত মানুষ, অপরিহার্য সেবার অভাব- এগুলোই তাদের প্রতিবারের দেখা প্রথম দৃশ্য।

সাম্প্রতিককালে সাহায্যকারীদের জন্য পরিস্থিতি আরো বেশি জটিল হয়ে পড়ছে। তাদের কাজের পরিবেশ হয়ে উঠেছে আরো বেশি সংকটাপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে বিপদজনক। কিন্তু সাহায্যকর্মীদের এসব সমস্যার ব্যাপারে তেমন নজর দেয়া হচ্ছে না।

সম্প্রতি গার্ডিয়ান পত্রিকা সাহায্যকর্মীদের সমস্যাগুলো নিয়ে একটি জরিপ প্রকাশ করেছে। জরিপে দেখা যায়, সাহায্যকর্মীদের একটা বড় অংশ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। কিন্তু তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।

এই সংক্রান্ত প্রশ্নে গ্লোবাল ডেভলপমেন্ট প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক’র ইউএন-এর সাবেক সমন্বয়কারী ভ্যালেরি এমোস বলেন, ‘অনেক সাহায্যকর্মীদের জোর করে কোনো আক্রান্তঅঞ্চলে দীর্ঘদিন থাকতে বাধ্য করা হয়। এমনকি আঞ্চলিক অনিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেও।’

সারা বিশ্বে পেশাদার সাহায্যকর্মীর প্রায় সাড়ে চার লাখ সদস্য রয়েছে- যাদের অবিরাম প্রতিকূল ও জটিল পরিবেশে থাকতে হবে বলেই ধরে নেয়া হয়। বারবার তাদের এক কাজ থেকে আরেক কাজে পাঠানো হয়। এমনকি কখনও খুবই কম সময়ে বা কোনো বিশ্রাম না দিয়েই। যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

এই অনুসন্ধানে নেতৃস্থানীয়দের এবং দাতাদের টনক নড়া উচিত। সংশ্লিষ্ট কাজে আরও সরঞ্জাম এবং বলিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন। নিশ্চিত করতে হবে সাহায্যকর্মীদের সুচিকিৎসা। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের নীতিমালা আরো সুস্পষ্ট করতে হবে। নতুন সাহায্যকর্মী নিয়োগপূর্ব প্রশিক্ষণ এবং নিয়োগ পরবর্তী মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।

তথ্যসূত্র- সিএনএন

মাসাফি আহমেদ ফেরদৌস অনিক, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মনেরখবর.কম