মা-বাবার মানসিক রোগে আক্রান্ত সন্তান! 1

মা-বাবার মানসিক রোগে আক্রান্ত সন্তান!

মানসিক রোগের সাথে জ্বিনগত কোনো প্রভাব বা সম্পর্ক আছে কি না তা নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাজ্যের একজন সিজোফ্রিনিয়া রোগীর আত্মহত্যার পর তার সন্তান জেমস লংম্যান বাবার অনেক আচরণের সাথে তার অনেক আচরণ মিল থাকায় তিনি উদ্বিগ্ন।

‘আমাকে যখন বলা হয়, আমি আমার বাবার মতো আচরণ করছি তখন আমি হতাশ হয়ে যাই। কারণ আমার বাবা সিজোফ্রেনিক রোগী ছিলেন এবং আমার বয়স যখন ৯ বছর তখন তিনি আত্মহত্যা করেন’ কথাগুলো বলছিলেন লংম্যান।

তিনি বলেন, ‘শুধু তাই নয়, ২০ বছর আগে আমার দাদা যখন জানতে পারলেন তার ক্যান্সার হয়েছে তিনিও আত্মহত্যা করেছিলেন। আমার দাদাও মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না। এখন আমার মনে হয়, আমিও মানসিক রোগে ভুগছি। কারণ আমি সর্বদা হতাশার মধ্যে থাকি।’

এখন তার মনে বড় প্রশ্ন যে, তার মানসিক রোগের কারণ কি তার বাবা কিংবা দাদা! বাবা এবং দাদাকে হারিয়ে তিনি দূর্ঘটনা পরবর্তী মানসিক রোগে ভুগছেন বলে মনে করেন তিনি।

ফলে মানুষের জ্বিনের সাথে মানসিক রোগের সম্পর্ক আছে কি না তা নিয়ে গবেষণা করছেন কিংস কলেজ, লন্ডনের (কেসিএল) গবেষকরা। প্রাথমিকভাবে তারা জানাচ্ছেন, মানসিক রোগের সাথে বংশগত প্রভাব কিছুটা রয়েছে।

তবে দেশটির বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের গবেষক-অধ্যাপক ক্যাথারিন লুইস বলেন, মানসিক রোগের সাখে জ্যানেটিকাল বিষয়ের যোগসূত্র বের করা বেশ কঠিন কাজ। মানসিক রোগ শুধু একটা জ্বিনের উপর নির্ভর করে না। তাই সামগ্রীকভাবে আমাদের চিন্তা করতে হবে।

এদিকে কেসিএল-এর প্রতিবেদন বলছে, সিজোফ্রেনিয়া রোগীর মধ্যে ১০৮ টি পরিবর্তিত জ্বিনের সন্ধান পেয়েছে তারা। এদরে মধ্যে হতাশায় ভোগা রোগীর মধ্যে নয় টি এবং বায়োপোলার ডিজঅর্ডার রোগীর মধ্যে ২০ টি জ্বিনের খোঁজ পেয়েছেন। তবে এসব জ্বিন বংশানুক্রমে কতটা বিস্তার ঘটাতে পারে সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি তারা।

সূত্র: বিবিসি নিউজ

ফারুক হোসেন, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মনেরখবর.কম