হতাশা ও উদ্বিগ্নতায় মেডিটেশন নাকি সাইকোডেলিকস? 1

হতাশা ও উদ্বিগ্নতায় মেডিটেশন নাকি সাইকোডেলিকস?

মানসিক রোগের কথা বললেই প্রথমে আসে হতাশা ও উদ্বিগ্নতার কথা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বব্যাপী ৩শ’ ৫০ মিলিয়ন মানুষ ডিপ্রেশনে ভুগছেন। অতি পরিচিত এসব  মানসিক রোগ থেকে রোগীদেরমুক্ত রাখতে সাইকোডেলিকস ও মেডিটেশনকে বেছে নেন ডাক্তাররা। কিন্তু মানিসক রোগের জন্য কোনটি বেশি কার্যকর? তা জানার জন্য যে গবেষণা করা হয় তাতে বলা হয়, মানুষের মষ্তিস্কের জন্য উভয় পদ্ধতি বেশ কার্যকর।

ডিপ্রেশনের চিকিৎসা হিসেবে ডাক্তাররা ওষুধ সেবনের পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি কাউন্সেলিং এবং থেরাপি প্রদান করেন। গবেষক ও চিকিৎসকরা বলে থাকেন, কাউন্সেলিংয়ের চেয়ে সাইকোডেলিক ওষুধ সেবন করাই বেশি ফলপ্রসূ।

তবে জন হপকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরো-সায়েনটিস্ট ফ্রেডারিক ব্যারেট বলেন, মানসিক চাপ ও উদ্বিগ্নতা কমানোর জন্য মেডিটেশন খুবই কার্যকরী। মনকে সুস্থ ও শান্ত রাখার জন্য মেডিটেশন একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষকদের পরিচালিত এ গবেষণায় বলা হয়,  মেডিটেশনের পাশাপাশি ‘সাইকোডেলিক মাশরুম’ও হতাশা ও উদ্বিগ্নতা হ্রাস করতে কাজ করে।

দীর্ঘদিন মানুষের জীবনাচরণ ও মস্তিস্কের কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করে গবেষকদের প্রধান মি ব্যারেট বলেন, নিয়মিত মেডিটেশন করলে মানুষের আবেগীয় অচরণে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দেয়। সাইকোডেলিক মাশরুম’ও হতাশা ও উদ্বিগ্নতা কমাতে সাহায্য করে।

তবে মেডিটেশনকে প্রধান্য দিলেও ওষুধ সেবন ও থেরাপিকে অকার্যকর বলেন নি তিনি। মেডিটেশনের পরও যদি কোনো উপকার না আসে তাহলে দ্বিতীয় পদ্ধতি হিসেবে সাইকোডেলিকস বা থেরাপি গ্রহণ করা যেতে পারে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন,  মেডিটেশনে যাদের কাজ হচ্ছে না তারা অন্য পন্থা অবলম্বন করতে পারেন। তবে উদ্বিগ্নতা ও মানসিক চাপ কমিয়ে মনোযোগ বৃদ্ধি করতে ওষুধ সেবন করতে হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Yale University) মেডিসিন স্কুলের অধ্যাপক পিটার অ্যাডি বলেন, মেডিটেশন এবং নিজেকে পর্যবেক্ষণের জন্য থেরাপি ব্যবহার করা যেতে পারে। মুড ডিজঅর্ডার দূর করতে এবং আসক্তি দূরীকরণেও মেডিটেশনকে উপায় ‍হিসেবে নেয়া যেতে পারে।

সূত্র: সিএনএন

ফারুক হোসেন, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মনেরখবর.কম