মূল পাতা / সংবাদ / আন্তর্জাতিক / অনিদ্রা মানসিক রোগের কারণ

অনিদ্রা মানসিক রোগের কারণ

ডিজিটাল মেডিসিন কোম্পানী Big Health বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে তাদের একটি জরিপ প্রকাশ করে যেখানে দেখা গেছে একটি মানুষের দৈহিক ঘুমের সাথে তার মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত।

গত ১০ অক্টোবর ছিল বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস যা মানসিক সমস্যাগ্রস্ত মানুষদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ দিবসটি পুরো বিশ্বকে মনে করিয়ে দেয় যে মানসিক সমস্যা যেকোনো সময় যে কাউকে অসুস্থ করে দিতে পারে। কেননা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিপূর্বে আমাদের সাবধান করে দিয়ে বলেছে যে, যদি জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া না হয় তাহলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিষণ্নতা পুরো পৃথিবীকে গ্রাস করবে।

মানসিক সমস্যার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। এটা হতে পারে জীনগত কারণে বা বাহ্যিক কোনো কারণে। গবেষণায় দেখা যায় ঘুমের সাথেও মানসিক সুস্থতা সম্পর্কিত।

ডিজিটাল মেডিসিন কোম্পানী Big Health থেকে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রায় আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৬৯ শতাংশই বিষণ্নতায় ভোগে। ত্রুটিপূর্ণ কিংবা আবছা আবছা ঘুমের ফলেও মানুষজন বিষণ্নতা ও এনজাইটিতে ভুগতে পারে।

ঘুম নিয়ে করা এক জরিপে দেখা গেছে কেবলমাত্র বৃটিশদের মধ্যে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মতামত অনুসারে রাতে স্বল্প ঘুম তাদের জীবনের সকল ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যেমন ভালো ঘুম না হলে তা তাদের এনার্জি লেভেলকে (৬০ শতাংশ), মেজাজকে (৪৮ শতাংশ), অপরের সাথে সম্পর্ককে (৩৫ শতাংশ), এবং দৈহিক স্বাস্থ্যকে (২৭ শতাংশ) প্রভাবিত করে। তবে সমস্যা এত গুরতর হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশই কোনো চিকিৎসা গ্রহণ করে না।

Big Health এর মতে Cognitive Behavioural Therapy (CBT) হতে পারে অনিদ্রা কাটিয়ে ওঠার একটি উপায়। এরা Sleepio নামের একটি প্রোগ্রাম পরিচালনা করে যা ঘুমের উন্নতির জন্য কার্যকর বলে পরীক্ষিত।

পৃথক একটি গবেষণায় দেখা গেছে National Health Service থেকেও Sleepio Plan কে সমর্থন করা হয়েছে। সেখান থেকে বলা হয়েছে অনলাইন CBT প্রগ্রাম Sleepio থেকে চিকিৎসা নেয়া ৬৮ শতাংশ রোগী তাদের বিষণ্নতা ও উত্তেজনা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে।

প্রফেসর Colin Espie যিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও Big Health এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর মতে,”আমাদের জীবনে ঘুমের সমস্যা কতটা প্রভাব ফেলে তা বোঝা জরুরি।” তিনি বলেছেন,”ঘুম আমাদের জীবনে অনেক গুরত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এটি মানসিকভাবে, শারীরিককভাবে, আবেগগতভাবে আমাদের প্রভাবিত করে। কাজেই যখন আমাদের ঘুম পর্যাপ্ত না হয় তখন আমরা শারীরিক মানসিক উভয় দিক দিয়ে এর পরিণাম ভোগ করতে থাকি। এতে আমাদের আবেগগত সমস্যা দেখা দেয়, মেজাজ বিগড়ে যায়। শারীরিক সমস্যা যেমন কাধে ব্যাথা দেখা দেয়,পরিপাকে সমস্যা হয়। ফলে সবসময় মেজাজ খারাত থাকে ও সবকিছু অসহ্য মনে হয়।”

তথ্যসূত্র- বিগ হেলথ, এক্সপোজ ম্যাগাজিন আয়ারল্যান্ড
http://www.tv3.ie/xpose/article/fitness-and-wellbeing/219534/Poor-sleep-and-mental-health-interlinked

আব্দুল্লাহ আল মামুন, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মনেরখবর.কম