মূল পাতা / সংবাদ / মানসিক রোগীদের মধ্যে শারীরিক রোগ ৪২ শতাংশ

মানসিক রোগীদের মধ্যে শারীরিক রোগ ৪২ শতাংশ

গুরুতর মানসিক রোগীদের মধ্যে ৪২ শতাংশ রোগী বিভিন্ন শারীরিক রোগে আক্রান্ত বলে এক জরিপে উঠে এসেছে। সম্প্রতি দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরের ১২টি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে দশ মাসব্যাপী করা জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরের ১২টি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মানসিক রোগের অন্তবিভাগ ও বহিবিভাগ মিলিয়ে মোট ২ হাজার ১৫৮ ব্যক্তির মধ্যে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। শনিবার (১১ আগস্ট) জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ।

জরিপে জানানো হয়, গুরুতর মানসিক রোগীদের মাঝে বিভিন্ন শারীরিক রোগের হার ৪২ শতাংশ। ১৮ বছরের নিচে নিউরোডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডার রোগীদের বিভিন্ন শারীরিক রোগের হার ৩২ শতাংশ এবং মাদকাসক্তি রোগীদের মাঝে বিভিন্ন শারীরিক রোগের হার ২১ শতাংশ।

‘গুরুতর মানসিক রোগের মাঝে অন্যান্য শারীরিক রোগ’ শীর্ষক এই জরিপের ফলাফল উপস্থাপনা করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ। গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে চলতি বছরের জুলাই মাসে জরিপটির কাজ শেষ হয় বলে জানান ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ।

জরিপে ফলাফলে জানানো হয়, গুরুতর মানসিক রোগীদের মাঝে প্রাপ্ত প্রধান প্রধান শারীরিক রোগের মধ্যে ডায়াবেটিস ১২ শতাংশ, উচ্চ রক্তচাপ ১১.১ শতাংশ, স্থুলতা ২.৫ শতাংশ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ ২.১ শতাংশ। এছাড়াও রক্ত স্বল্পতা রোগও পাওয়া গিয়েছে তাদের মধ্যে।

অন্যদিকে মাদকাসক্ত রোগীদের মাঝে প্রাপ্ত প্রধান প্রধান শারীরিক রোগের মধ্যে ডায়াবেটিস ৫.০২ শতাংশ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ ৪.৫২ শতাংশ, রক্ত স্বল্পতা ৩ শতাংশ, চর্মরোগ ৩ শতাংশ, বাত ব্যথার সমস্যা ৩ শতাংশ রয়েছে। এছাড়াও এদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ও স্থুলতা রোগ পাওয়া গিয়েছে।

জরিপের ফলাফল থেকে আরো জানা যায়, ১৮ বছরের নিচে নিউরোডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডার রোগীদের মাঝে প্রাপ্ত প্রধান প্রধান শারীরিক রোগের মধ্যে মৃগী (এপিলেপসি) ১৫ শতাংশ, ডায়াবেটিস ২.৫ শতাংশ, থায়রয়েড এর সমস্যা ২ শতাংশ এবং সেরেব্রাল পালসি ২ শতাংশ পাওয়া গিয়েছে। সেই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ সংক্রমন ও স্থুলতা রোগও রয়েছে তাদের।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল এই জরিপ পরিচালনা করে। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আলম, এনসিডিসির প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মো রিজওয়ানুল করিমসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের মানসিক রোগ বিষেশজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।