দেশে প্রতিদিন গড়ে ২৮ জন মানুষ আত্মহত্যা করে 1

দেশে প্রতিদিন গড়ে ২৮ জন মানুষ আত্মহত্যা করে

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২৮ জন মানুষ আত্মহত্যা করে। যাদের বেশিরভাগের বয়স ২১-৩০ বছরের মধ্যে। এবং আত্মহত্যাকারীর অধিকাংশই নারী। পুলিশ সদর দপ্তর ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তথ্যে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের মাল্টিপারপাস হলে বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ‘আত্মহত্যার সংবাদ কেমন হওয়া উচিত’ বিষয়ক কর্মশালায় এসব তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তরা। আর কর্মশালাটির আয়োজন করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইএমএইচ) পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আলম, এনআইএমএইচ এর অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল, এনআইএমএইচ এর সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ, এনআইএমএইচ এর সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেখলা সরকার এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. হাসিনা মমতাজ।

ডা. আব্দুল মোহিত কামাল বলেন, ‘নিজের চারপাশের মানুষগুলোর মনের খবর রাখতে হবে। যারা আত্মহত্যার ঝুঁকিতে আছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। যদি আগে থেকেই বোঝা যায়, কেউ আত্মহত্যার পথে হাঁটছেন, তাহলে তাকে বুঝিয়ে ওই পথ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’

ডা. ফারুক আলম বলেন, ‘আত্মহত্যা প্রতিরোধে এ ধরনের আলোচনা বেশি বেশি হওয়া দরকার। যত বেশি আলোচনা হবে, সবাই ততোবেশি এ সম্পর্কে জানবে, জানলে সচেতন হবে। আর সচেতন হলে প্রতিরোধও বাড়বে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে পৃথক নীতিমালা হওয়া প্রয়োজন।’

ডা. মেখালা সরকার বলেন, ‘আত্মহত্যা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো জরিপ নেই। তবে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি লাখে ১০ থেকে ৩৯.৬ জন মানুষ আত্মহত্যা করে। বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন ২৮ জন মানুষ আত্মহত্যা করে থাকেন। এদের বেশির ভাগের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।’

কর্মশালায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা তুলে ধরে ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সংবাদটি প্রথম পৃষ্ঠায় বা অন্যত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রকাশ করা যাবে না। শিরোনামে এমন কোনো শব্দ বা বাক্যরীতি ব্যবহার করা উচিত নয় যা পাঠক বা দর্শকে উদ্দীপনার খোরাক দেয়। আবার এমন ভাবেও প্রকাশ করা যাবে না যে আত্মহত্যা একটি মামুলী স্বাভাবিক মৃত্যুমাত্র। শিরোনামে এমন কোনো বার্তা না থাকে যাতে মনে হয় আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান।’

তিনি আরো বলেন, ‘কিভাবে একজন আত্মহত্যা করেছে বা করবার চেষ্টা করে কেন ব্যর্থ হয়েছে সে বিষয়ে যেন বিস্তারিত বিবরত আত্মহত্যার সংবাদে না থাকে। এ ধরনের বিবরণ ভবিষ্যতে আরো একজনকে একটি সফল আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিতে পারে। সেলিব্রেটি ব্যক্তিদের আত্মহত্যার বিষয়টি দ্বিগুণ সতর্কতা নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে’।

ডা. হাসিনা মমতাজ বলেন, ‘পাঁচটি প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যমের গত ছ’মাসে ৬২টি ঘটনার প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হয়। তাতে দেখা গেছে, ৬২টি কেসের মধ্যে ১০টি কেসে ছবি বা ভিডিও দেখানো হয়েছে। হাইলাইট করা হয়েছে আত্মহত্যার পদ্ধতি। এসব নেতিবাচক বিষয়ের মধ্যেও মিডিয়ার ইতিবাচক দিকগুলো হচ্ছে কয়েকটি প্রতিবেদনে এর প্রতিরোধে কোথায় যেতে হবে, কারা কাজ করছে, প্রতিরোধের উপায় তুলে ধরা হয়েছে।’