পাবনা মানসিক হাসপাতালে ফেসবুক লাইভ ও গোলটেবিল আলোচনা 1

পাবনা মানসিক হাসপাতালে ফেসবুক লাইভ ও গোলটেবিল আলোচনা

পাবনা মানসিক হাসপাতাল বিশ্বের অন্যতম এবং দেশের সর্ববৃহৎ ও প্রথম মানসিক হাসপাতাল। অথচ এই হাসপাতাল সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সঠিক ধারণার চেয়ে ভ্রান্ত ধারণাই বেশি বিদ্যমান।

পাবনা মানসিক হাসপাতাল সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করে এর ইতিহাস, বর্তমান ও ভবিষৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে জানাতে উদ্যোগ গ্রহণ করে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মাসিক ম্যাগাজিন ও অনলাইন পোর্টাল ‘মনের খবর’।

আজ (১৩ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার পাবনা মানসিক হাসপাতালের কনফারেন্স হলে আয়োজন করা হয় গোলটেবিল আলোচনা ও ফেসবুক লাইভ।

বেলা ১১.০০ টায় “পাবনা মানসিক হাসপাতাল: বর্তমান চিত্র ও সম্ভাবনা” শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় পাবনা মানসিক হাসপাতালের কর্মকর্তাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

মনের খবর সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব এর সঞ্চলনায় বৈঠকে পাবনা মানসিক হাসপাতালের সামগ্রিক চিত্র নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাসপাতালের সহকারী রেজিস্টার ডা. মো. ওয়ালিউল হাসনাত সজীব।

পাবনা মানসিক হাসপাতালে ফেসবুক লাইভ ও গোলটেবিল আলোচনা 2

প্রবন্ধে ডা. সজীব উল্লেখ করেন ১৯৫৭ সালে পাবনার তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হোসেন গাঙ্গুলী এর ব্যক্তিগত উদ্যোগে শহরের শীতলাই হাউসের জমিদার বাড়িতে যাত্রা শুরু হয় পাবনা মানসিক হাসপাতালের। বর্তমানে ৮১.২৫ একর জমির উপর অবস্থিত হাসপাতালটিতে ৫০০ শয্যা থাকলেও লোকবল বরাদ্দ আছে মাত্র ২০০ শয্যার। তবে সেক্ষেত্রেও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনির কর্মচারির স্বল্পতা না থাকলেও হাসপাতালটিতে বিশেষজ্ঞদের সংকট রয়েছে।

এই সংকট সমাধানে প্রতিষ্ঠানটিতে দ্রুতই পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্স চালু করার পরামর্শ দেন আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা। পাবনা হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাস বিষয়টি নিয়ে সসরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনার কথা জানান।

হাসপাতালটিতে রোগীদের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে বলে নিজের প্রবন্ধে উল্লেখ করেন ডা. মো. ওয়ালিউল হাসনাত সজীব। এছাড়া রোগীদের যেকোন পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হয় বলে জানান তিনি।

পাবনা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সম্পন্ন করে বাড়িতে যেয়েও অনেকে কেন আবার ফিরে আসেন স্থানীয় সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. তন্ময় প্রকাশ দাশ বলেন, মানসিক রোগীদের নিয়ে সমাজের মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে- রোগীরা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরে গেলেও সমাজের মানুষের বিদুপের পরিবর্তন হয় না। তাই অনেকে অস্বস্তি বোধ করে ফিরে আসেন। এ প্রসঙ্গে ডা. সজীব মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে পাবনা মানসিক হাসপাতাল নিয়ে ভ্রান্ত সংবাদ প্রচার বন্ধে গণমাধ্যম কর্মীদেরকে আরো বেশি সচেতন থাকার অনুরোধ জানান।

গোলটটেবিল আলোচনাটিতে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমেটিডে।

উল্লেখ্য যে, ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বছরে এরকম ছয়টি অনু্ষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতা করার জন্য মনের খবর এর সাথে চুক্তি হয় ইনসেপ্টা ফার্মার।

এরপর বিকেলে চারটা থেকে পাঁচটা পযন্ত একই স্থান থেকে “মানসিক রোগ চিকিৎসা  পাবনা মানসিক হাসপাতাল” বিষয়ে কথা বলেন অধ্যাপক ডা. তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাস ও অধ্যাপক ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব।

পাবনা মানসিক হাসপাতালে ফেসবুক লাইভ ও গোলটেবিল আলোচনা 3