অপরিচিত লোকজন দেখলেই হার্টবিট বেড়ে যায়, তাদের সাথে ঠিক করে কথা বলতে পারি না 1

অপরিচিত লোকজন দেখলেই হার্টবিট বেড়ে যায়, তাদের সাথে ঠিক করে কথা বলতে পারি না

সমস্যা:
আমি আমার কিছু সমস্যা শেয়ার করতে চাই যেটা আমি ছোটবেলা থেকেই সহ্য করে আসছি। আমি ছোটবেলা থেকেই ভীষণ লাজুক আর ভীতু টাইপের। অপরিচিত লোকজন দেখলেই হার্টবিট বেড়ে যায়, তাদের সাথে ঠিক করে কথা বলতে পারি না। তাই সব সময় মুখ লুকিয়ে থাকতাম। বাসায় কেউ আসলেই পালিয়ে যেতাম, মানুষের সাথে মেশাটা খুব কঠিন কাজ বলে মনে হতো। মন খুলে কারো সাথে কথা বলতে পারতাম না, তাই আমাকে সবাই অসামাজিক ভাবতো, খুব কষ্ট হতো। এভাবেই দিনের পর দিন এই যন্ত্রণা নিয়ে বড় হয়েছি। এখন আমার গ্র্যাজুয়েশন শেষ হয়েছে। কিন্তু আজও আমার এই সমস্যাটা যায়নি। এখন লোকজন আমায় খুব স্মার্ট এবং ভীষণ সোশ্যাল মেয়ে মনে করে। মানুষের সাথে এখন আমি কথা বলি, মেলামেশা করি আর দশটা স্বাভাবিক মেয়ের মতো। কিন্তু কেউ না জানলেও আমি জানি আমি আসলে এরকম না। আমার ভেতরের সেই ভীতি এখনও যায়নি। লোকজনের সাথে আমি অভিনয় করি যে আমি আর দশটা মানুষের মতোই স্বাভাবিক। কিন্তু এভাবে আমি আর পারছি না, খুব যন্ত্রণা হয়। মনে হয় এই সমাজ, এতো লোকজনের মাঝ থেকে চিরকালের মতো হারিয়ে যাই। মরে যেতে ইচ্ছে করে আমার। প্রতিনিয়ত আত্মহত্যার কথা ভাবি। আমার সাথেই কেন এমন হয়? কেন আমি আর দশটা মানুষের মতো নিজের আবেগ অনুভূতি প্রকাশ করতে পারি না? কেন আমি মন খুলে কথা বলতে পারি না? কেন আমার ভেতরটা সব সময় অস্থির থাকে? আমার মনটা ভীষণ অস্থিতিশীল, ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তিত হয়ে যায়। এভাবে আর পারছি না, সত্যিই পারছি না।

 

পরামর্শ:
প্রশ্নের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আসলে ব্যক্তিত্ত্বের গঠন অনুযায়ী প্রতিটি মানুষই স্বতন্ত্র। ব্যক্তিত্ত্বের বৈশিষ্ঠ্য বিশ্লেষনে দেখা যায় যে, কেউ লাজুক প্রকৃতির, কেউবা একটু ভীতু, কেউ সাহসী, আবার কেউ হয় অন্তর্মূখী কিংবা কেউ বহির্মূখী। আর এ বৈশিষ্ট্যগুলো ছোটবেলা থেকেই গঠিত হয়। আপনার বেলায়ও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আপনি অন্তর্মূখী ও ভীতু চরিত্রের অধিকারী। তবে সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হচ্ছে এই বৈশিষ্ট্যগুলো আপনার শিক্ষাগত কিংবা সামাজিক জীবনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

তবে ব্যক্তিত্ত্বের সমস্যার ফলশ্রুতিতে বর্তমানে আপনার মধ্যে বিষন্নতারও লক্ষণ দেখা দিয়েছে। তবে এখন আপনার মধ্যে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক চাপ আছে কিনা তা জানা প্রয়োজন। কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার দরকার হতে পারে। বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে এটা বলা যায় যে, আপনার ওষুধের পাশাপাশি কাউন্সেলিং-এরও প্রয়োজন আছে।

আপনার প্রতি পরামর্শ হলো, আপনি অতি সত্বর একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখান। মনোরোগ বিশেষজ্ঞই আপনাকে ওষুধ ও পাশাপাশি সাইকোথেরাপী দিবেন। প্রয়োজনে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের সহযোগীতা নেয়া যেতে পারে।

আপনার ব্যক্তিত্ত্বের অন্তর্মূখীতা অতিক্রম করে (যা আপনি ছোটবেলা থেকে সাফল্যের সাথে করে আসছেন) দ্রুত সুস্থতা লাভ করুন এটাই কাম্য। আবারো ধন্যবাদ।

পরামর্শ দিচ্ছেন,
ডা. সুস্মিতা রায়


দৃষ্টি আকর্ষণ- মনেরখবর.কম এর প্রশ্ন-উত্তর বিভাগে, মানসিক স্বাস্থ্য, যৌন স্বাস্থ্য, মাদকাসক্তি সহ মন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আপনার কোনো জানার থাকলে বা প্রশ্ন থাকলে বা বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দরকার হলে question@monerkhabor.com এই ইমেলের মাধ্যমে প্রশ্ন পাঠাতে পারেন।