মূল পাতা / প্রশ্ন-উত্তর / বিরুপ পরিস্থিতিতে কীভাবে সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটাবো?

বিরুপ পরিস্থিতিতে কীভাবে সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটাবো?

প্রশ্ন: আমি নাজিমুল হক। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর করছি। দ্বিতীয় বর্ষে পড়ুয়া অবস্থায় একটি মেয়ের সাথে আমার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে ভালো বন্ধুত্ব হয়ে উঠে। একসময় আমাদের সম্পর্ক হয়ে উঠে বন্ধুর চেয়েও বেশি। কিন্তু, আমার বাড়ি অন্য শহরে হওয়ায় এই সম্পর্ক ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছেনা। আমি যখন চলে যাবো মেয়েটা তখন কষ্ট পাবে। তাই আমার মনে হয় এখানে থাকা অবস্থায় আমাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করা উচিত। কিন্তু আমার কাছে বিষয়টি খুবই কষ্টদায়ক লাগছে। আবার মনে হচ্ছে যেমন চলছে তেমনই থাকুক। একদিন কিছু না বলে চলে যাবো। এমন পরিস্থিতিতে আমি কি করবো?

উত্তর: আপনি হয়তো বোধ করছেন এটা আপনার সমস্যা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটা জগতের একটা চিরন্তন প্রশ্ন। ভগবান বুদ্ধদেব যে চারটি আর্যসত্য (দ্যা ফর নোবেল ট্রুথ) বলে গেছেন তার প্রথমটি হলো, প্রিয় মানুষের কাছ থেকে দূরে চলে যাওয়া একটি দুঃখের বিষয়। দ্বিতীয়টি হলো, প্রিয় জিনিসকে পাওয়ার বাসনা এর প্রতি মানসিক সম্পর্ক বা আকৃষ্টতা। না পাওয়ার কষ্ট প্রশমনের উপায় হিসেবে তৃতীয়টিতে বলেছেন, এই বাসনা মানসিক সম্পর্কের নিবৃত্তি বা ফলাফল। আপনার বর্তমান অবস্থা যাতে করে উপলব্ধি করতে পারেন সেজন্য কথা গুলোর উল্লেখ। তাতে আপনি নির্মোহভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। যা আপনার সমস্যার সমাধানে কাজ করবে।

সমস্যা যেহেতু আপনার, তাই সমাধানও আপনার হাতে। আপনার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে তা। সামগ্রিকভাবে যে কোন সমস্যার সমাধানের একটা পদ্ধতি আপনাকে বলে দিতে পারি। সেটি হলো নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা:

১। সমস্যা কি সমাধানের যোগ্য?

২। যদি সমাধান যোগ্য হয়, তবে সমাধানের উপায়গুলো কি? উপায় গুলোর প্রতিটির লাভ-ক্ষতি বের করা। যেটি সবচেয়ে বেশি উপযোগী মনে হয় সেটি গ্রহন করা।

৩। যদি সমাধান যোগ্য মনে না হয়, তবে সক্রিয় ও যৌক্তিকভাবে তা মেনে নেওয়া।

আপনার ক্ষেত্রে কয়েকটি কথা বলে রাখা প্রয়োজন তা হল:

১। জেনে রাখুন, বিচ্ছেদে কষ্ট হবেই। এই সত্য যত সহজে মেনে নিবেন জীবন তত সহজ হবে। সুতরাং, নিজে তা মেনে নিন এবং আপনার সঙ্গীকে তা মেনে নিতে সহায়তা করুন। আর সময় সবচেয়ে উপশমকারী। প্রথমদিকে কষ্ট বেশি হলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

২। মিথ্যা দিয়ে কখনো সত্যিকার সমাধান আসেনা। বরং তাতে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে। সম্পর্ক একবারে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আর ভবিষ্যতে কাউকে বিশ্বাস না করার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সহজ ও সুন্দরভাবে সত্যি কথাগুলো গুছিয়ে বলুন। আপনি নিশ্চয় জানেন, কীভাবে বললে আপনার সঙ্গী তা সহজ করে নিতে পারবে।

৩। যা কিছুই করুন না কেন, শুরুতেই সিদ্ধান্ত নেন আপনি কি চান, আপনার জীবনের লক্ষ্য কি, ভবিষ্যতে আপনি নিজেকে কোথায় দেখতে চান, আর তা বাস্তবায়নের জন্য আপনার কি করা উচিত? ভেবেচিন্তে যথাসম্ভব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন আর সিদ্ধান্তে অটল থাকুন।

এখানে কিছু প্রাথমিক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা হলো। যেগুলো শুনে ভালো লাগলেও কঠিন মনে হতে পারে। তবে, লেগে থাকলে আসলেই সহজ। তারপরও যদি আপনার অসুবিধা বোধ হয় তবে নিকটস্থ মনোবিদ (সাইকলজিস্ট) বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞর (সাইকিয়াট্রিস্ট) কাছে সাইকোথেরাপি নিন।

 

ভালো থাকবেন, ধন্যবাদ।

ডা. পঞ্চানন আচার্য্য

 

আপ-এইচএন

ডা. পঞ্চানন আচার্য্য। স্থায়ী ঠিকানা চট্টগ্রাম। তবে, কলেজ শিক্ষক মায়ের চাকুরিসূত্রে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কেটেছে শৈশব। মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবং উচ্চ-মাধ্যমিক চট্টগ্রাম কলেজ থেকে। সিলেট এম. এ. জি. ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ থেকে এম.বি.বি.এস পাসের পর সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন। মেডিক্যালে পড়ার সময় থেকেই মনোরোগ নিয়ে পড়ার প্রতি আগ্রহ। তাই, ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্ধারিত সময়ের চাকুরি শেষে ভর্তি হন মনোরোগবিদ্যায় এম.ডি(রেসিডেন্সি) কোর্সে। বর্তমানে তিনি একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। বংশপরম্পরায় প্রাপ্ত শিক্ষকতার ধারা বজায় রেখে চিকিৎসক ও শিক্ষক হওয়াটাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। বই, সঙ্গীত আর লেখালেখিতেই কাটে অবসর সময়ের বেশির ভাগ। স্বপ্ন দেখেন - মেধা ও মননশীলতার চর্চায় অগ্রগামী একটা বাংলাদেশের।