মূল পাতা / প্রশ্ন-উত্তর / বুকের উপর হাত নিয়ে দেখি হার্ট চলছে কিনা

বুকের উপর হাত নিয়ে দেখি হার্ট চলছে কিনা

সমস্যাঃ স্যার , আমার নাম সিরাজুল ইসলাম, বয়স ৩৯ বছর। অনেকদিন ধরে আমার সমস্যা হচ্ছে আমি বেশী লোকের সামনে কথা বলতে পারি না। কোন কাজের জন্য ইন্টারভিউ দিতে পারি না। বস বা মালিকের সামনে কথা বলতে পারি না, হাত পা কাঁপে, শরীর কাঁপে, মুখ শুকিয়ে যায়, বুক ধরফর করে। কারও সাথে রাগারাগী বা ঝগড়া হলে হার্ট বিট বেড়ে যায়, নার্ভাস লাগে, শরীর দূর্বল হয়ে পড়ে, হাত, বুক, মাথা কেমন যেন দূর্বল আর ঝিমঝিম লাগে। বুকের বাঁ পাশে কেমন যে চেপে ধরে। শক্তি থাকে না নার্ভাস লাগে। খেতে ইচ্ছা করে না। কোম্পানির কাজে এক জায়গা হতে অন্য জায়গায় যেতে ইচ্ছা করে না। শুধু শুধু চিন্তা আসে, ভালো লাগে না, সাহস পাই না। রাতে শুতে গেলে চোখ বন্ধ করলে চোখের সামনে আজে বাজে অকাল্পনিক কিছু ভাসে, আর মৃত্যুর কথা বার বার আসে। চিন্তা আসে, মাথা হ্যাং হয়ে যায়, বার বার বুকের উপর হাত নিয়ে দেখি হার্ট চলছে কিনা। শোয়া থেকে উঠে বসে পড়ি যেন মনে হয় মারা যাবো। এ রকম সমস্যা রাতে মাঝে মধ্যেই হয়, আর ঘুম হয় না। তার পর বই পড়ি বাঁ মোবাইল চালাই। যখন মাথা অন্য চিন্তা ভাবনায় চলে যায় তখন ঘুম আসে। কাজের সময় শরীরে রাগ থাকে। নিজের উপর আস্থা বিশ্বাস কম। নিজেকে অসহায় মনে হয়। অন্যরা যা পারে বা মেনে নিতে পারে আমি তা পারি না। অনেক সময় জানা কাজও মনে হয় পারবো না। ডাক্তার দেখিয়ে কিছু চেকাপ করিয়েছিলাম। ব্লাড, হরমোন এর আগে এক বড় ডাক্তার বললো ইসিজি করাতে, বুকের এক্সরে করিয়েছি। সব ঠিক আছে নরমাল। পিজিতে একজন ম্যাডাম সেশন (কাউন্সিলিং) দিতো। ১০ বারের মতো সেশন নিলাম। সৌদি আসার পর টেলিফোনের মাধ্যমে কিছুদিন সেশন নিতাম। ম্যাডাম আমাকে রিলাক্সেশন দিয়েছিলো। মাঝে মাঝে ক্লোবাম ১০ মিলি খাই। অতিরিক্ত সমস্যা হলে সেরোলক্স ৫০ মিলি অর্ধেক খাই। আর ডাক্তার কিছুদিন ঔষধ খেতে বলেছিলো তা নিয়মিত খেয়েছি। লেখায় ভুল হলে মাফ করবেন। আল্লাহ্‌ হাফেজ।

পরামর্শঃ বোঝা গেলো সমস্যাগুলো নিয়ে আপনি অনেক দিন ধরেই ভুগছেন। আপনার সমস্যাগুলোকে যদি আমারা দুই ভাগে ভাগ করি তাহলে দেখা যাবে কিছু সমস্যা আপনার আগে থেকেই আছে, আবার কিছু সমস্যা আপনার বর্তমান সমস্যা। দুই ধরনের সমস্যার ব্যাপারেই আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন। পূর্বে থেকে চলে আসা সমস্যাগুলো আপানার ব্যক্তিত্বজনিত সমস্যা, আর বর্তমানে চলমান সমস্যাগুলো নির্দিষ্ট কোনো রোগের সমস্যা। আপনার ইমেইলটিতে বর্তমান সমস্যা আলাদা করে না বললেও, আপনার লেখা থেকেই তা বোঝা যায়। যেমন:
-খেতে ইচ্ছা করে না।
– কোম্পানির কাজে এক জায়গা হতে অন্য জায়গায় যেতে ইচ্ছা করে না।
– শুধু শুধু চিন্তা আসে, ভালো লাগে না, সাহস পাই না।
– রাতে শুতে গেলে চোখ বন্ধ করলে চোখের সামনে আজে বাজে অকাল্পনিক কিছু ভাসে,
– আর মৃত্যুর কথা বার বার আসে।
– চিন্তা আসে, মাথা হ্যাং হয়ে যায়, বার বার বুকের উপর হাত নিয়ে দেখি হার্ট চলছে কিনা।
– শোয়া থেকে উঠে বসে পড়ি যেন মনে হয় মারা যাবো।
উপরের সমস্যাগুলোই আপানার বর্তমানে প্রধান সমস্যা। সেই সাথে আরো যে সব সমস্যার কথা বলেছেন বা আগে থেকেই যে সব সমস্যা আপনার চলে আসছিলো। যেমন,
– আমি বেশী লোকের সামনে কথা বলতে পারি না।
– কোন কাজের জন্য ইন্টারভিউ দিতে পারি না।
– বস বা মালিকের সামনে কথা বলতে পারি না।
– হাত পা কাঁপে, শরীর কাঁপে, মুখ শুকিয়ে যায়, বুক ধরফর করে।
– কারও সাথে রাগারাগী বা ঝগড়া হলে হার্ট বিট বেড়ে যায়, নার্ভাস লাগে, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, হাত, বুক, মাথা কেমন যেন দূর্বল আর ঝিমঝিম লাগে, বুকের বাঁ পাশে কেমন যেন চেপে ধরে, শক্তি থাকে না, নার্ভাস লাগে।

বর্তমান সমস্যাগুলি থেকে মোটামুটি ধারণা করা যায়, বর্তমানে আপনি মৃদু হলেও বিষণ্নতায় ভুগছেন। তাই ভালো থাকার জন্য অবশ্যই আপনাকে চিকিৎসা নিতে হবে। আপনি উল্লেখ করেছেন, আপনি অতিরিক্ত সমস্যা হলে সেরোলাক্স ৫০ মিগ্রা খেয়ে থাকেন। আমি আপনাকে বলবো, মাঝে মাঝে না বরং আপনি নিয়মিত সেরোলাক্স খেয়ে যান এবং সেটা ১০০ মিগ্রা প্রতিদিন সকালে।

আর ব্যক্তিত্বজনিত সমস্যাগুলোর ব্যাপারে আপনার সব সময় মনে রাখতে হবে যে সব মানুষ এক রকম হয় না, কেউ একটু নার্ভাস প্রকৃতির হতেই পারে। তাই যেকোনো কাজ করার সময় বা আগে, আপনি নিজেকে একটু প্রস্তুত করে নিলে ভালো হবে। আপনি বর্তমানে দেশের বাইরে থাকেন। দেশে থাকা আবস্থায় বিএসএমএমইউ থেকে সেশন নিয়ে যেসব বিষয় আপনি জেনেছেন শিখেছেন সেসব আপনার ব্যক্তিত্বের সমস্যা মোকাবেলা করতে সহায়ক হবে। তাই আপনাকে এসব শিক্ষা সব সময় মনে রাখতে হবে এবং কাজে লাগাতে হবে।

বিষণ্নতার চিকিৎসা আপনাকে বেশ কিছুদিন চালিয়ে যেতে হবে। দুই এক মাসের ভেতর দেশে আসলে সরাসরি দেখা করে চিকিৎসা নিবেন। বিদেশে যদি সম্ভব হয়, সেখানেও কোনো একজন বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ রাখেতে পারেন।

হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সমস্যা, রোগ এসব আসতেই পারে, সময় মতো ব্যবস্থা নিতে পারলে সবই দূর হয়।

আপনি কাজে মনোযোগ দিতে পারবেন এবং ভালো থাকবেন সেই আশা করছি।