যেকোনো কাজেই অস্থিরতা

যেকোনো কাজেই অস্থিরতা

সমস্যা: স্যার, সালাম নিবেন। আমার ছোট ভাইকে নিয়ে খুব সমস্যায় আছি। ওর বয়স ৩১ বছর। তার সমস্যার শুরু ২০১৫ থেকে। সে কোনো একটি চাকরিতে ঢুকে খুব বেশিদিন স্থায়ী হতে পারে না। এই পর্যন্ত বেশ কয়েকবার চাকরি ছেড়েছে। তার যেকোনো কাজেই অস্থিরতা কাজ করে। সে মনে করে সে কাজ করতে পারবে না। অথচ তার যথেষ্ট যোগ্যতা আছে।
সূচীপত্র show
যেকোনো কাজেই অস্থিরতা ছাড়াও ইদানীং তার মধ্যে আরো কিছু সমস্যা দেখা যাচ্ছে; সব সময় তার মধ্যে একটা ভয় কাজ করে, একা একা কোথাও যেতে ভয় পায়, সবাইকে সে সন্দেহ করে, বলে তাকে নাকি মেরে ফেলা হবে। এজন্য সে এখন বন্ধুবান্ধব আত্মীয়-পরিজন সবাইকে এড়িয়ে চলে। কোনো কাজকর্ম করে না, সারাদিন ঘরে বসে থাকে। আমরা তাকে নিয়ে খুব চিন্তিত। এটা কি কোনো কঠিন রোগ? এটা কি কোনো মানসিক সমস্যা? এর কি কোনো সমাধান আছে? প্লিজ, স্যার পরামর্শ দিয়ে উপকৃত করবেন । -আল্পনা , ঢাকা।

পরামর্শ  দিয়েছেন অধ্যাপক ডা. মামুন হুসাইন: আমার আন্তরিক সহমর্মিতা গ্রহণ করুন। ভাইকে নিয়ে আপনার উদ্বেগ-যাতনার কথা পাঠ করে আমার বক্তব্য আপনার জ্ঞাতার্থে নিবেদন করছি-সংক্ষিপ্ত চিঠিতে সমস্যা আঁচ করা গেলেও, প্রয়োজন পূর্ণ ইতিহাস ও রোগের বিবরণী-যা এক্ষুণি নিশ্চয়ই সম্ভব হলো না। চাকরিতে যোগদান, আমাদের সকলের জন্যই জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। গবেষণায় দেখা গেছে চাকরিস্থল, চাকরিস্থলের পরিবেশ, সহকর্মী, চাকরিদাতা ইত্যাদি নানান নিয়ামক আমাদের প্রায়শ আক্রান্ত করে। যে জন্য ‘চাকরিস্থলে মনো-স্বাস্থ্য’ নিয়ে-এখন বিস্তর আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে’।

এখন ‘ঘন-ঘন চাকরি বদল’-নিছক খাপ খাওয়ানের সমস্যা ও ব্যক্তিত্বের জটিলতা হিসেবে বর্ণনা করা গেলেও, অপর সমস্যা, বিশেষ করে ‘সন্দিগ্ধ’ হওয়ার ঘটনাটি বাড়তি মনোযোগ দাবি করে। অযৌক্তিক সন্দেহ এবং ভয় (আপনার ভাষায় ‘…মেরে ফেলা হবে’) এই প্রসঙ্গটি একটি গুরুতর মনোরোগের পূর্বলক্ষণ। কাজেই চটজলদি মন্তব্য কিংবা ঔষধের নাম উল্লেখ না করে আমার পরামর্শ হবে-অনুগ্রহ করে সত্বর কোনো মনোরোগ-চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন যেন দ্রুত আপনার ভাই চিকিৎসাকার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট হতে পারেন। আর আপনাকে আশ্বস্ত করতে চাই এই মর্মে যে, এখন আমাদের দেশেই সকল ক্ষেত্রে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার সর্বোচ্চ সুযোগ বিদ্যমান। আবারো অশেষ শুভেচ্ছা। আসছে নতুন বছর হোক আপনার পরিবারের জন্য আনন্দময়। সবাই সুস্থ থাকুন, কল্যাণময় থাকুন নিরন্তর।