যৌনতা

যৌনতা শুধু বংশবিস্তারের জন্য নয়

যৌনতা শুধু বংশবিস্তারের জন্য নয়। অনেকে যৌনবিজ্ঞান না বলে প্রজনন বিজ্ঞান বলতে পছন্দ করেন। প্রজনন বিষয়টি মূলত প্রজন্মের জন্ম ও বিস্তারের সাথে সম্পর্কয্ক্তু।

যৌনতা বা যৌনক্রিয়া শুধু বংশবিস্তারের প্রয়োজনেই যদি হতো, তবে সন্তান আর শারিরীক মিলনের সংখ্যা সমান হতে পারতো।যৌনতা বিষয়টি অবশ্যই আরো বেশি কিছু, যা প্রতিদিনের জীবনের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্টভাবে জড়িত।

সহজ কথায় বলতে গেলে, যৌনক্রিয়া বা কার্যক্রম মানুষের আনন্দ, তৃপ্তি, স্বাচ্ছন্দ ও বিনোদন প্রক্রিয়ার একটি প্রকৃতিজাত অংশ। বিষয়টি প্রতিক্রিয়া হিসেবেও দেখা যায়। নির্দিষ্ট বয়সের পর এই প্রবণতাকে চেপে রাখলে মানুষের ভিতর ভিন্ন এক ধরনের এনজাইটি বা অস্থিরতা তৈরি হয়। তাই যৌনতার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে, যৌনক্রিয়াও চলে আসে।

যৌনক্রিয়া তখন মানুষের নির্দিষ্ট সেই অস্থিরতাকে কমিয়ে আনে এবং আনন্দ দিতে সহায়ক হয়।

যৌনক্রিয়ার নির্দিষ্ট কিছু উপকারিতা:

সুস্থ্য ও স্বাভাবিক যৌনতা প্রতিদিনের জীবনে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু ভূমিকা রাখে। শারিরীক, মানসিক এমনকি সামাজিক জীবনে এর প্রত্যক্ষ অবদান আছে। যেমন-

  • সুস্থ্য যৌনানুভূতি নারী ও পুরুষ (যৌনসংগীর), দুজনের মধ্যে অন্তরঙ্গতা বাড়ায়। যা দুজনেরই স্বাস্থ্য ও সাধারণ জীবন বোধকে উন্নত করে।
  • শরীরে Immunoglobulin A (Ig A) বাড়ায় এবং এর মাধ্যমে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • Cardiovascular System (CVS), হৃদক্রিয়ায় স্থিতি আনে এবং সেই সাথে Blood pressure (BP) নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • আত্মবিশ্বাস (Self-esteem) বাড়ায়, সেই সাথে মনের মধ্যে সুখী (happiness) থাকার একটা অনুভূতি দেয়।
  • Oxytocin নামের এক ধরনের হরমোন নিসৃত হয় যা শরীরের বিভিন্ন রকমের ব্যথা নিরোধক হিসেবে কাজ করে।
  • পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রাস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
  • কটি দেশীয় বা pelvic muscles এর শক্তি বাড়ায় এবং বয়সকালেও চলাফেরাতে সাহায্য করে।
  • যৌনানুভূতি ভালো ঘুমের জন্য সাহায্য করে।
  • যেকোনো রকমের গন্ধের অনুভূতিকে তীব্র করে।
  • বয়সের সাথে সাথে মুত্রথলির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে।
  • স্কিনের বা চামড়ার লাবন্যতা বাড়াতে সাহায্য করে।
  • শরীরের বিভিন্ন অংশের মাংস পেশীর স্বাভাবিক সংবেদনশীলতাকে ধরে রাখে।
  • পুরুষ কিংবা মহিলা দুজনেরই স্বাভাবিক হরমোন নিঃস্বরনে সামঞ্জস্যতা বজায় রাখে।
  • প্রয়োজনীয় ক্যালোরি ব্যবহার করে শরীরের স্বাভাবিক ওজন ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • স্বাভাবিক যৌনসম্পর্ক মানুষকে বেশি সময় ধরে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।

এছাড়া, সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যে সমস্ত মহিলাদের স্তন বা ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়েছে, তাঁদের স্বাভাবিক যৌনজীবন চলতে থাকলে (experience of orgasm) অন্যদের থেকে আগে সমস্যা দূর হতে সাহায্য করে। অনেক মহিলাদের মাসিকের সময় যে ব্যথা হয়, সেটাও কমে যায়। সেইসাথে মাথা ব্যথাও কমে। স্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক শরীরে endorphins নামের এক ধরনের কেমিকেল নিঃস্বরন করায়, যা মানুষের বিরক্তি বোধ (irritability) কমায় এবং সেই সাথে এক ধরনের প্রসন্নতার (feeling of relaxation) অনুভূতি দেয়।

অতএব, এটা স্পষ্ট যে, সুস্থ যৌনস্বাস্থ্য মানুষের প্রতিদিনের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। একই সাথে এটাও মনে করতে হবে, অসম্পূর্ণ বা অসুখী যৌনতা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ঠিক তার বিপরীত প্রতিক্রিয়া ঘটে বা ঘটতে পারে। শারিরীর মানসিক ও সামাজিক জীবনে বিভিন্ন রকমের দুর্ভোগ তৈরি করাসহ কলহ তৈরি করতে পারে। যৌনরোগ বা যৌনসমস্যা সংসার ভেঙে যাবার একটি বড় কারণ।

মনের খবর ডেস্ক