যৌনজীবনকে বিপর্যস্ত করে যেসব মানসিক বাধা

অনেকেই বোঝেন না সঙ্গী-সঙ্গিনী কি চাইছেন? যৌনজীবনে এটা বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টির জন্যে যথেষ্ট। আবার অনেকেই প্রচণ্ড ইচ্ছা থাকলেও মুখ ফুটে বলতে পারেন না। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৫টি সমস্যা সাধারণভাবে দেখা যায় বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে নারীরা এসব অন্তরায়ের শিকার হয়ে থাকেন। তারা কোনভাবেই তাদের যৌন চাহিদা নিয়ে কোনো কথাই বলতে চান না। সমস্যাগুলো জানুন এবং নিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।

১. যদি কিছু ভেবে বসে… : এটা বড় দুশ্চিন্তার বিষয়। সঙ্গীকে নিজের যৌন চাহিদা সম্পর্কে কিছু বললে যদি সে অন্য কিছু ভেবে বসে? অথবা সঙ্গী খারাপ কোনো ধারণা পোষণ করতে পারে। অথবা এ কথাটা যদি অস্বাভাবিক কিছু হয়ে যায়? এসব নানা চিন্তায় মানসিক বাধার সম্মুখীন হন নারীরা।

করণীয় : এসব দুশ্চিন্তা বাদ দিলে নিজের সম্পর্কে কি কি ধারণা হয় তার একটা তালিকা করা যেতে পারে। এ তালিকা অনুযায়ী নিজের যৌন আকাঙ্ক্ষা মেটানোর পরিকল্পনা করুন। সঙ্গীর সঙ্গে আলাপচারিতা বড় সমাধান দিতে পারে।

২. নিরাপত্তাহীনতা : যৌনতার ক্ষেত্রে নারীদের জন্যে নিরাপত্তাহীনতা সবচেয়ে বড় বিষয়। সঙ্গী হয়তো এ আহ্বানে সাড়া দেবে না। এমন একটা ভয় ঢুকে যায় মনে। আবার এমন ভয়ও কাজ করে যে, হয়তো সঙ্গীর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এসব চিন্তা নিরাপত্তা নষ্ট করে।

করণীয় : আগে বুঝতে হবে, ব্যক্তিগতভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, নাকি পুরো সম্পর্ক নিয়েই দুশ্চিন্তা কাজ করছে? যদি কেবল নিজের চিন্তা হয়, তবে ভুলগুলো নিজেই বের করার চেষ্টা করতে হবে। আর যদি সম্পর্কের মূলে নিরাপত্তাহীনতা কাজ করে তবে সঙ্গীর সঙ্গে আলোচনায় বসাটাই উত্তম কাজ হবে।

৩. আসলে কি চাইছেন তা পরিষ্কার নয় : অসংখ্য নারী যৌনজীবনে নিজের চাহিদা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন না। তারা ভেবেও পান না আসলে কি চাইছেন। এ ক্ষেত্রে অতৃপ্তি আর এলোমেলো চিন্তার শিকার হবেন।

করণীয় : যৌন শিক্ষা বিষয়ক ভালো বইগুলো সহায়ক হতে পারে। শিক্ষামূলক সিনেমাও সাহায্য করবে।

৪. ‘না’ বলতে ভয় করে : অধিকাংশের ক্ষেত্রে এ সমস্যা হয়ে থাকে। তারা একান্ত মনের কথা প্রকাশ করতে ভয় পান। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজের ইচ্ছাকেই ‘না’ বলে দেন। মনে হয়, প্রকাশ পেলে হয়তো দুজনের মাঝে তা দেয়াল তৈরি করবে।

করণীয় : ব্যক্তিগতভাবে ‘না’ বলতে যাবেন না। অনেক ক্ষেত্রেই অবশ্য ‘না’ শব্দটা নিজের ভালো জন্যেই বলতে হয়। তবে যৌনজীবনের ক্ষেত্রে নয়। এতে নিজের বিষয় নিজের কাছে লুকানো হলে চাহিদা কখনোই পূরণ হবে না।

৫. যা করা উচিত বলে মনে হয় তাই করছেন : সামাজিকভাবে আমাদের যৌনজীবনটাকে উপভোগ করার উপায়গুলো সীমাবদ্ধ। যৌনকর্মের পদ্ধতিটাও সবার কাছে একইরকম। এ বিষয়ে পুরুষরাই শুরু ও শেষ করেন। তাই নারীদের চাহিদা তাদের মনেই থেকে যায়।

করণীয় : যৌনতা মানেই দৈহিক মিলন নয়। এর আগেও অনেক কিছু থাকতে পারে। এ বিষয়ে সঙ্গীর সঙ্গে আলাপ করে নিন। এ বিষয়ে দুজনকেই সৃষ্টিশীল হতে হবে। অন্তরঙ্গতা বা ভালোবাসা জ্ঞাপনের ভূমিকা কোনো অংশে কম নয়। এগুলো পার্টনারকে বোঝানো সঙ্গিনীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

সূত্র : ফক্স নিউজ